বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৬

১৪২২

তেমন কিছু না নিয়েই
অনেক কিছু দিয়েছো!
কিছুটা নিতে পেরেছি,
কিছুটা গেছে অবহেলায়।
দিয়েছো কয়েক বিন্দু দুঃখ,
এবং দু-হাত ভরে সুখ।
না দিলেই নয়, তাই সামান্য- কান্না।
তার হাত দিয়েই পাঠিয়ে ছিলে বুকভরা হাসি।
বিনিময়ে তুমি নিয়েছো কি,-
কিছু তো নয়।
আমি তো পেয়েছি,-
সূর্যের কিরণ, চাঁদের জ্যোৎস্না।
বৈশাখী উষ্ণতায় উষ্ণ হৃদয়।
শ্রাবণের রিমঝিম ছন্দে মাতাল দুপুর।
একগুচ্ছ কাশফুলের প্রেমময় স্মৃতি।
ধানের শিসে জমে থাকা,
ঊষার আলোয় ঝকমক করা,
একটি শিশির বিন্দু।
চলার পথে পেয়েছি শাল পিয়ালির শুকনো পাতা।
রক্তিম কৃষ্ণচুড়া, লাল পলাশের প্রেমের হাতছানি।
পেয়েছি সবচেয়ে বড় কিছু, সে আমার মা,
পেয়েছি মায়ের অকৃত্রিম স্নেহ,
অফুরন্ত ভালোবাসা, অশেষ আশীর্বাদ।
১৪২২ তোমার দুহাত ভরে দেওয়া এ দান,
কখনোই ভুলব না।
____________সুরজিৎ সী

শনিবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৬

হাসি

স্বপ্ন গুলো বেচে দিয়ে
তোর জন্য কিনে ছিলাম
মুঠো ভরা সুখ।
শত ভিড়ের এ দুনিয়ায়
দেখতে শুধু চেয়ে ছিলাম
তোর হাসি মুখ।
কাঁপা কাঁপা দুইটি হাতে
আজও আমি ফুটপাতে
স্বপ্ন গুলো বেচি।
তোর মুখের ঐ মিষ্টি হাসি
দেখতে বারেক দুচোখে ভরে
আজও বেঁচে আছি।
_________সুরজিৎ সী

খুকুর কান্না

মায়ের ছেঁড়া শাড়ি দিয়ে তৈরি
পুতুল খেলার ঘরটি ভেঙে গেল বলে,
সে-কি কান্না খুকুর!
কেউ সামলাতে পারেনি,-
বাবা; মা; ছোটকা; পিপি, সবাই নাজেহাল!
পাড়া সুদ্ধ লোক হাজির হল ক্ষণে।
খুকু নাহি কারো কথা শোনে।
বাবা বলল,- লক্ষ্মী মা আমার কাঁদিসনা,
তোর জন্য রাজপ্রাসাদ গড়িয়ে দেব।
ছোটকা বলল,- সোনা মেয়ে, লক্ষ্মী আমার,
মেলা থেকে রাজপুত্তুর এনে দেব।
পিপি বলল,- এই দেখ দেখ কি সুন্দর হলদে পাখি।
মা বলল,- কাঁদিস-নে মা, মুছিয়ে দুটি আঁখি।
বীরু কাকু, মালতী পিসি কোলে তুলে কত আদর করল।
খুকুর কান্না কেউই থামাতে পারেনি।
এমন সময় পুচকো ছেলেটি, নাম বিট্টু
এসে যেই বাঁশের কঞ্চির উপর
ছেড়া শাড়িটা তুলে বলল,
"আয়রে মনি রান্না খেলি"।
অমনি খুকুর কান্না বন্ধ হল।
পাড়া শুদ্ধ লোক অবাক চোখে চেয়েই থাকল।
_________________সুরজিৎ সী

সোমবার, ২৮ মার্চ, ২০১৬

প্রতীক্ষা

দ্বিতীয় কোনো পথ নেই তো,-
জানিনা ঠিকানা।
হারিয়েছি ছবি।
নম্বরটা ভুল বলে,
টেলিফোন ও দিল ফাঁকি।

ফেসবুকে নেই সে,
অনেক তো খুঁজলাম,-
বিজ্ঞাপন দিইনি,
তবু অপেক্ষায় থাকি।
আসবে বলে,-
_________সুরজিৎ সী

বুধবার, ১৬ মার্চ, ২০১৬

হারানো সেই দিন গুলো

ডাকত পাখি গাইত গান নাচত দিঘির জল।
আমদের ও ছিল একটি না-ঘুমোনোর দল।
মায়ের চোখে ফাঁকি দিয়ে বৈশাখী দুপুরে,
বড়শি কাঁধে শিকারি হয়ে চলতাম ঐ দূরে।
বনের ধারে ঝিলের পাড়ে বড়শি নিয়ে হাতে।
বকের মতো চুপটি করে বসতাম এক সাথে।
ঘাসফড়িংকে টোপ বানিয়ে ফাঁসিয়ে নিতাম মাছ।
হারানো সেই দিন গুলো খুব মনে পড়ে আজ।
যেই মাছটি ছেড়ে যেত সেইটা বড় হত।
এসব নিয়ে আবোলতাবোল তর্ক হত যত।
তখন যেন ওসব ছিল সব কাজেরই কাজ।
হারানো সেই দিন গুলো খুব মনে পড়ে আজ।
                            _____________সুরজিৎ সী

সোমবার, ১৪ মার্চ, ২০১৬

বদ-অভ্যেস

আজও রোজ সকাল হলেই সব কাজ ফেলে,
আগে মেসেজ গুলো চেক করি।
না না আশা আর মোটেই নেই,
কেমন যেন একটা অভ্যেস হয়ে গেছে।
আমিতো জানি ওদের কথা,
মেসেজরা আজ ঠিকানা বদলেছে।

আশা ভরসারা আজ থালায় রাখা কর্পূর।
শুধু একরাশ স্মৃতি পাথরের মতো
কঠিন হয়ে জমে গেছে বুকটার ভেতরে।
ওরা ছটপট করেনা, নড়েও না চড়েও না।
মাঝেমধ্যে শ্বাসনালীটা চেপে ধরে,
তাতেও ওরা অদক্ষতার পরিচয় দেয়।

বদ-অভ্যেস গুলো,-
হ্যাঁ, অনেকেই একে বদ-অভ্যেস বলে।
অভ্যেসটা বদ হোক কিংবা সৎ,
সমাজের চোখে একটা অকম্মার ঢেঁকি
করে রেখেছে আমাকে।
কয়েক দিনের প্রতীক্ষা আজ
বদ-অভ্যেসে পরিনত হল।

       _________সুরজিৎ সী